আইওটিতে মিলিয়ন ডলারের বাজার, আছে নিরাপত্তার ঝুঁকি
ইন্টারনেট সংযুক্ত ডিভাইসগুলোর মাধ্যে আন্তঃযোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপাত্ত সরবারহ করণ মুন্সিয়ানার ওপর নির্ভর করেই বাড়ন্ত হচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। সময়ের এই ধারায় এগিয়ে থাকতে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ওপর নজর দিতে হবে।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার মোহাম্মাদপুরস্থ ওয়াই ডব্লিউসিএ ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত দুই দিনের বাংলাদেশ স্কুল অব ইন্টারনেট গভর্নেন্স (বিডিসিগ-২০১৯) স্কুলের সমাপনী দিনে আইওটি’র ওপর আলোচনায় এসব কথা বলেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক (সিএসই) কাজী হাসান রবিন।
তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালে আরএফআইডি’র মাধ্যমে আইওটি’র এই যাত্রা শুরু হলেও প্রতিনিয়ত এর বিস্তৃতি বাড়ছে। আর বহুল জনবসিত ও তারুণ্য শক্তি নির্ভরতার ফলে দেশে আইওটি ব্যবহারের দিগন্ত বিস্তৃত সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজ ও ব্যবসায়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে। গড়ে উঠবে মিলিয়ন ডলারের বাজার। কৃষিকাজ, পশু প্রতিপালন, নগরীর আবর্জনা অপসারণ ছাড়াও দৈনন্দিন ক্ষেত্রে আইওটি ভিত্তিক সল্যুশনের ব্যবহারের মাধ্যমে বাড়বে উৎপাদন, কমবে খরচ। আর এআই সেবা উন্নয়নে সংগৃহিত তথ্যকে প্রজ্ঞা পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।
অপরদিকে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সেশনে ফাইবার অ্যাট হোম প্রধান নির্বাহী সুমন আহমেদ সাবির বলেন, প্রযুক্তি দুনিয়ায় সাইবার নিরাপত্তা লবেণেল মতো। এর গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বিশ্বাসের অভাব থেকেই শুরু হয় নিরাপত্তার ঝুঁকি। তাই সাইবার নিরাপত্তা আর বিশ্বাস মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু যন্ত্রের ওপর বিশ্বাস রাখা যায় না। তাই এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে প্রযুক্তি সচেতনতার মাধ্যমে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ডাটার একটি সুনির্দিষ্ট ভ্যালু বা মূল্য রয়েছে। তাই এর নিরাপত্তায় নিরাপদ অবকাঠামো ও স্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাইবার আচরণ, মূল্যবোধ ও সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। অংশীজনদের নিয়ে এই বিষয়ে নীতি নির্ধারণ পর্যায়ে সুস্পষ্ট ধারণা পৌঁছে দিতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করতে হবে। বৈশ্বিক কলাবরেশন বাড়াতে হবে। গত এক বছরে দেশে ঘটমান বিষয় পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে স্পর্শকাতর ডেটার প্রসেসিংয়ে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড থেকে আমরা অনেকটা পিছিয়ে আছি।
এছাড়াও ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর আলোচনা করেন এসএসএল ওয়্যারলেসের ই-কমার্স সেবা বিভাগের প্রধান এম নাওয়াট আশেকিন। ডোমেইন নেম সিস্টেম (ডিএনস) নিয়ে আলোচনা করেন আইক্যান ফেলো শায়লা শারমিন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে বাংলাদেশ সেন্টার ফর ৪আইআর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফেলো সৈয়দ তামজিদ উর রহমান এবং ভুয়া তথ্য ও প্রচারণা এবং ফেক নিউজের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন আন্তর্জাতিক মিডিয়া কনসালটেন্ট জায়ান আল মাহমুদ।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ১৭২ জন আবেদনকারীর মধ্যে প্রশিক্ষণ নেয়া নির্বাচিত ৪৫ জন ফেলোর হাতে সনদ তুলে দেয়া হয়।